প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খোলার নিয়ম ২০২৬
আপনি কি প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে চান কিন্তু নিয়ম জানেন না? অনেকেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে গিয়ে বিভিন্ন জটিলতায় পড়েন। ঠিক কোন কাগজপত্র লাগবে, কত টাকা জমা দিতে হবে, আপনার জন্য কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট সবচেয়ে ভালো হবে এসব বিষয়ে সঠিক তথ্য না থাকায় অনেকে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন।
প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কী কী কাগজপত্র লাগে, কত টাকা লাগে, কোন ধরনের মানুষের জন্য কোন অ্যাকাউন্ট ভালো এবং বর্তমানে ব্যাংকটি বাংলাদেশের কত নম্বরে আছে এই পোস্টে সবকিছু সহজভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পোস্টটি শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনি প্রাইম ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন।
প্রাইম ব্যাংক কি এবং এর অবস্থান কেমন?
Prime Bank PLC বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক। ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই ব্যাংকটি দীর্ঘ পথচলায় দেশের আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। গ্রাহকসেবা, উদ্ভাবনী ব্যাংকিং সমাধান এবং আর্থিক সক্ষমতার জন্য প্রাইম ব্যাংকের সুনাম রয়েছে।
সাম্প্রতিক ব্যাংক পারফরম্যান্স র্যাংকিংয়ে ২০২৪ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রাইম ব্যাংক বাংলাদেশের তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ৩য় স্থান অর্জন করেছে। একই র্যাংকিংয়ে প্রথমে BRAC Bank এবং দ্বিতীয়তে City Bank ছিল। এই র্যাংকিং করা হয়েছে মূলত ROA (রিটার্ন অন অ্যাসেট), ROE (রিটার্ন অন ইক্যুইটি), NPL (নন-পারফর্মিং লোন), নেট মুনাফা, শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য এবং শাখাপ্রতি পরিচালন মুনাফার ভিত্তিতে।
অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত প্রাইম ব্যাংকের ১৪৯টি ব্রাঞ্চ (এর মধ্যে ১৮টি SME Centre/Branch) এবং ১৫৮টি ATM বুথ রয়েছে। এই বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ব্যাংকটি সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে।
আর জানতে পারেনঃ সোনালি ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম
প্রাইম ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট কত প্রকার ও কী কী?
প্রাইম ব্যাংকে শুধু একটি বা দুটি নয়, বরং গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রয়োজন ও জীবনধারা অনুযায়ী বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট সুবিধা রয়েছে। ব্যাংকের অফিসিয়াল প্রোডাক্ট তালিকা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য অ্যাকাউন্টগুলো হলো—
সাধারণ অ্যাকাউন্ট
- Prime Savings Account: সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্ট, দৈনিক ব্যালেন্সের ওপর মুনাফা গণনা করা হয়।
- Prime One Savings Account: স্বল্প প্রাথমিক জমায় অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা।
- Prime Current Account: ব্যবসায়ী ও বড় অঙ্কের লেনদেনকারীদের জন্য চলতি অ্যাকাউন্ট।
বিশেষায়িত অ্যাকাউন্ট
- Prime Youth Account: ১৮-২৫ বছর বয়সী তরুণদের জন্য বিশেষ অ্যাকাউন্ট।
- Prime First Account: ১৮ বছরের নিচে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অ্যাকাউন্ট।
- Prime Teacher’s Account: শিক্ষক সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাকাউন্ট।
- Prime Fifty & Plus Account: ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী সিনিয়র নাগরিকদের জন্য।
- Prime Business Plus Account: ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য।
- Prime Porijon Account: প্রবাসী পরিবার ও রেমিট্যান্সপ্রাপ্ত গ্রাহকদের জন্য।
এছাড়াও ইসলামী ব্যাংকিং পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্ট খুলতে চাইলে Hasanah সংস্করণের অ্যাকাউন্টও রয়েছে। অর্থাৎ, প্রাইম ব্যাংকে আপনার পেশা, বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ আছে।
কোন মানুষের জন্য কোন অ্যাকাউন্ট সবচেয়ে ভালো?
অনেকেই ব্যাংকে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে যেকোনো একটি অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলেন। কিন্তু পরে বুঝতে পারেন যে সেটি তার প্রয়োজনের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। আসুন জেনে নেই আপনার জন্য প্রাইম ব্যাংকের কোন অ্যাকাউন্টটি সবচেয়ে উপযুক্ত হবে—
১) চাকরিজীবীদের জন্য
নিয়মিত বেতনভোগী চাকরিজীবীদের জন্য Prime Savings Account বা Prime One Savings Account ভালো অপশন। এই অ্যাকাউন্টে দৈনিক ব্যালেন্সের ওপর মুনাফা পাওয়া যায়। এছাড়া ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও ডেবিট কার্ড সুবিধা থাকে। Prime One Savings Account-এ প্রাথমিক জমা মাত্র ৫০০ টাকা এবং কিছু ক্ষেত্রে লাইফ ইন্স্যুরেন্স কভারেজও দেওয়া হয়।
২) ব্যবসায়ীদের জন্য
যাদের নিয়মিত বড় অঙ্কের লেনদেন করতে হয়, তাদের জন্য Prime Current Account সবচেয়ে উপযোগী। এতে লেনদেনের ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আর যারা ছোট বা মাঝারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাদের জন্য Prime Business Plus Account ভালো। এতে ইন্টারসিটি চার্জ মওকুফ, বিনামূল্যে এটিএম উত্তোলন এবং এমএসএমই ডেবিট কার্ডের সুবিধা পাওয়া যায়।
৩) তরুণদের জন্য (১৮-২৫ বছর)
এই বয়সীদের জন্য প্রাইম ব্যাংকের Prime Youth Account দারুণ একটি অ্যাকাউন্ট। এতে ৪% পর্যন্ত প্রভিশনাল মুনাফা, ফ্রি ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড, বিনামূল্যে প্রথম চেকবুক, কোনো অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণ ফি নেই এবং বীমা কভারেজের মতো আকর্ষণীয় সুবিধা রয়েছে।
৪) শিশু-কিশোরদের জন্য (১৮ বছরের নিচে)
অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য Prime First Account খোলা যায়। মাত্র ১০০ টাকা প্রাথমিক জমায় এই অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। এতেও বিনামূল্যে ডেবিট কার্ড, চেকবুক এবং কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ফি নেই।
৫) শিক্ষকদের জন্য
শিক্ষক সম্প্রদায়ের জন্য প্রাইম ব্যাংক এনেছে Prime Teacher’s Account। এই অ্যাকাউন্টে তুলনামূলক বেশি মুনাফা, বিনামূল্যে বীমা কভারেজ, প্রথম চেকবুক ফ্রি, প্রথম বছরের ডেবিট কার্ড ফ্রি এবং লকার ভাড়ায় বিশেষ ছাড়ের সুবিধা রয়েছে।
৬) বয়স্কদের জন্য (৫০+ বছর)
বয়স ৫০ পেরিয়েছে এমন গ্রাহকদের জন্য Prime Fifty & Plus Account। এই অ্যাকাউন্টে লকার ভাড়ায় ৫০% ছাড়, নির্বাচিত হাসপাতালে সুবিধা, লাইফস্টাইল ডিসকাউন্ট এবং ফ্রি ডুয়েল কারেন্সি ডেবিট কার্ড পাওয়া যায়।
৭) প্রবাসী পরিবারের জন্য
যেসব পরিবার নিয়মিত রেমিট্যান্স পায়, তাদের জন্য Prime Porijon Account বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এতে রেমিট্যান্স বোনাস, চেকবুক, ডেবিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং লাইফ ইন্স্যুরেন্স কভারেজের মতো সুবিধা রয়েছে।
প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কী কী কাগজপত্র লাগে?
প্রাইম ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সাধারণত নিচের ডকুমেন্টগুলো প্রয়োজন হয়। অ্যাকাউন্টের ধরন ও গ্রাহকের প্রোফাইলভেদে কিছু কাগজপত্র কমবেশি হতে পারে—
অপরিহার্য ডকুমেন্ট
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) / পাসপোর্ট / ড্রাইভিং লাইসেন্স (বৈধ পরিচয়পত্র)
- সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি (২ কপি)
- নমিনির ছবি (১ কপি)
- নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্র বা পরিচয়পত্রের ফটোকপি
- সচল মোবাইল নম্বর (অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নিজ নামে রেজিস্টার্ড)
- ঠিকানার প্রমাণ (ইউটিলিটি বিল / ভাড়াটিয়া চুক্তিপত্র / সিটি কর্পোরেশনের ট্যাক্স রসিদ)
- টিআইএন সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
- প্রাথমিক জমার টাকা
বিশেষ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
- ব্যবসায়ীদের জন্য: ট্রেড লাইসেন্স, টিন সনদ, অংশীদারি চুক্তি (যদি প্রযোজ্য হয়)
- চাকরিজীবীদের জন্য: অফিস আইডি কার্ড, বেতন প্রত্যয়নপত্র
- শিক্ষার্থীদের জন্য: শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র, বয়সের প্রমাণপত্র (জন্মনিবন্ধন)
- অপ্রাপ্তবয়স্কের জন্য: অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র, অভিভাবকের ছবি, জন্মনিবন্ধন সনদ
প্রাইম ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে?
এটি একটি সাধারণ প্রশ্ন—প্রাইম ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে? উত্তরটি নির্ভর করে আপনি কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট খুলতে চান তার ওপর। অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের জন্য প্রাথমিক জমার পরিমাণ নিচে দেওয়া হলো—
| অ্যাকাউন্টের ধরন | প্রাথমিক জমা (সর্বনিম্ন) |
|---|---|
| Prime Current Account | ১,০০০ টাকা |
| Prime One Savings Account | ৫০০ টাকা |
| Prime Savings Account | ৫,০০০ টাকা (আনুমানিক) |
| Prime First Account | ১০০ টাকা |
| Prime Youth Account | ৫০০ টাকা (আনুমানিক) |
| No-Frill Account | ১০/৫০/১০০ টাকা |
সহজভাবে বললে, প্রাইম ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে কমপক্ষে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫,০০০ টাকা বা তার বেশি লাগতে পারে—এটা নির্ভর করবে আপনি কোন অ্যাকাউন্টটি বেছে নিচ্ছেন তার ওপর।
প্রাইম ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম: ধাপে ধাপে নির্দেশনা
প্রাইম ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আপনি দুভাবে আবেদন করতে পারেন—সরাসরি ব্রাঞ্চে গিয়ে অথবা অনলাইনে আবেদন শুরু করে। চলুন ধাপে ধাপে জেনে নিই—
ধাপ ১: সঠিক অ্যাকাউন্ট নির্বাচন করুন
প্রথমে সিদ্ধান্ত নিন আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী কোন অ্যাকাউন্টটি সবচেয়ে উপযুক্ত। উপরের তালিকা থেকে আপনার বয়স, পেশা ও লেনদেনের ধরন মিলিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট বেছে নিন।
ধাপ ২: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করুন
NID, ছবি, নমিনির তথ্য, পেশার প্রমাণপত্র—সব কাগজপত্র আগে থেকে গুছিয়ে রাখুন। ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স, চাকরিজীবী হলে অফিস আইডি কার্ড এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে অভিভাবকের ডকুমেন্টও প্রস্তুত রাখুন।
ধাপ ৩: আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করুন
অনলাইনে আবেদন:
- প্রাইম ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান
- “Apply Online Now” অপশনে ক্লিক করুন
- আপনার পছন্দের অ্যাকাউন্ট সিলেক্ট করুন
- প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করুন
- অনলাইনে আবেদন জমা দিন
সরাসরি ব্রাঞ্চে গিয়ে:
- আপনার নিকটস্থ প্রাইম ব্যাংকের ব্রাঞ্চে যান
- অ্যাকাউন্ট খুলতে চান—এমনটি কাউন্টার অফিসারকে জানান
ধাপ ৪: অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ফরম পূরণ করুন
ব্রাঞ্চ থেকে অ্যাকাউন্ট ওপেনিং ফরম নিয়ে সঠিকভাবে পূরণ করুন। ফরমে সাধারণত যেসব তথ্য দিতে হবে—
- নাম (NID-এর সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে)
- পিতা/মাতা/স্বামীর নাম
- জন্ম তারিখ
- জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
- পেশা
- বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা
- মোবাইল নম্বর ও ইমেইল
- নমিনির বিস্তারিত তথ্য
ধাপ ৫: ডকুমেন্ট ও প্রাথমিক জমা জমা দিন
পূরণকৃত ফরমের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের ফটোকপি এবং আপনার নির্বাচিত অ্যাকাউন্ট অনুযায়ী প্রাথমিক জমার টাকা জমা দিন।
ধাপ ৬: নথিপত্র যাচাই-বাছাই
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনার দেওয়া তথ্য ও ডকুমেন্ট যাচাই করবে। কোনো তথ্যে ভুল বা ডকুমেন্টে অসঙ্গতি থাকলে আবেদনটি ঝুলে যেতে পারে।
ধাপ ৭: অ্যাকাউন্ট চালু ও চেকবুক/কার্ড সংগ্রহ
সবকিছু ঠিক থাকলে সাধারণত ১-২ কার্যদিবসের মধ্যে আপনার অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে যাবে। পরে আপনি ডেবিট কার্ড, চেকবুক এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং অ্যাক্টিভেশন সুবিধা সংগ্রহ করতে পারবেন।
প্রাইম ব্যাংকের বিশেষ সুবিধাসমূহ
প্রাইম ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুললে আপনি যেসব বিশেষ সুবিধা পাবেন—
১) আর্থিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা
দেশের তৃতীয় সেরা ব্যাংক হিসেবে প্রাইম ব্যাংকের আর্থিক অবস্থান বেশ শক্তিশালী। ফলে আপনার জমানো টাকার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।
২) বিস্তৃত শাখা ও এটিএম নেটওয়ার্ক
১৪৯টি ব্রাঞ্চ ও ১৫৮টি এটিএম বুথ সারা দেশে ছড়িয়ে থাকায় আপনি সহজেই ব্যাংকিং সেবা নিতে পারবেন।
৩) আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং
MyPrime ইন্টারনেট ব্যাংকিং-এর মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই ব্যালেন্স দেখা, স্টেটমেন্ট ডাউনলোড, ফান্ড ট্রান্সফার, বিল পেমেন্ট-সহ নানা সেবা নিতে পারবেন। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও এই সুবিধা পাওয়া যায়।
৪) বিশেষায়িত অ্যাকাউন্ট সুবিধা
শিক্ষক, তরুণ, বয়স্ক, ব্যবসায়ী, প্রবাসী পরিবার—সবার জন্য আলাদা অ্যাকাউন্ট থাকায় আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সেরা অ্যাকাউন্টটি বেছে নিতে পারেন।
৫) ফি ও চার্জে ছাড়
- প্রথম চেকবুক বিনামূল্যে (অধিকাংশ অ্যাকাউন্টে)
- প্রথম বছরের ডেবিট কার্ড ফ্রি (বিশেষ অ্যাকাউন্টে)
- লকার ভাড়ায় বিশেষ ছাড় (৫০+ অ্যাকাউন্ট ও টিচার্স অ্যাকাউন্টে)
- ইন্টারসিটি চার্জ মওকুফ (বিজনেস প্লাস অ্যাকাউন্টে)
৬) বীমা কভারেজ
ইয়ুথ অ্যাকাউন্ট, টিচার্স অ্যাকাউন্ট, পোরিজন অ্যাকাউন্ট-সহ বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্টে বিনামূল্যে বীমা কভারেজ দেওয়া হয়।
প্রাইম ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার আগে যা জানা জরুরি
অ্যাকাউন্ট খোলার আগে শুধু প্রাথমিক জমা নয়, নিচের বিষয়গুলোও জেনে নেওয়া ভালো—
- মাসিক লেনদেনের সীমা: আপনার অ্যাকাউন্টে মাসিক কত টাকা লেনদেন করতে পারবেন
- সর্বনিম্ন ব্যালেন্স: অ্যাকাউন্টে কত টাকা জমা রাখতে হবে (যদি থাকে)
- চার্জের তালিকা: ডেবিট কার্ড ফি, এসএমএস চার্জ, চেকবুক ফি, অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণ ফি
- কার্ড সুবিধা: আপনার অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ডেবিট কার্ড/ক্রেডিট কার্ড পাওয়া যাবে কিনা
- অনলাইন ব্যাংকিং: ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল অ্যাপের সুবিধা সম্পর্কে জানুন
ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বা সরাসরি ব্রাঞ্চে গিয়ে সর্বশেষ Schedule of Charges দেখে নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
কোন অ্যাকাউন্ট নিলে সবচেয়ে ভালো হবে?
সবচেয়ে ভালো অ্যাকাউন্ট হলো—যেটি আপনার জীবনের এই পর্যায়ে আপনার সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে। চলুন সহজ করে বলি—
| আপনার পরিচয় | সেরা অ্যাকাউন্ট |
|---|---|
| চাকরিজীবী (সাধারণ) | Prime Savings / Prime One |
| ব্যবসায়ী | Prime Current / Prime Business Plus |
| তরুণ (১৮-২৫ বছর) | Prime Youth |
| শিশু/কিশোর (১৮-র নিচে) | Prime First |
| শিক্ষক | Prime Teacher’s |
| বয়স্ক (৫০+ বছর) | Prime Fifty & Plus |
| প্রবাসী পরিবার | Prime Porijon |
| ইসলামী ব্যাংকিং পছন্দ করেন | Hasanah Variant |
প্রাইম ব্যাংক নিয়ে কিছু সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রাইম ব্যাংকে অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খোলা যায় কি?
হ্যাঁ, প্রাইম ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে নির্দিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্টের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যায়। তবে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই ও ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার জন্য শাখায় যেতে হতে পারে।
প্রাইম ব্যাংকে নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিরা অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন?
হ্যাঁ, প্রবাসী বাংলাদেশিরা Non-Resident Foreign Currency Deposit (NFCD) অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এর জন্য আলাদা নিয়ম ও ডকুমেন্ট প্রয়োজন।
প্রাইম ব্যাংকের কোন অ্যাকাউন্টে সর্বনিম্ন জমা ১০০ টাকা?
Prime First Account এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসাপেক্ষে No-Frill Account-এ সর্বনিম্ন ১০০ টাকা জমায় অ্যাকাউন্ট খোলা যায়।
প্রাইম ব্যাংকের গ্রাহক সেবা নম্বর কত?
প্রাইম ব্যাংকের ২৪/৭ গ্রাহক সেবা হটলাইন নম্বর হলো ১৬৫২৩ অথবা ০৯৬১২৭৭৭৭৭৭
শেষ কথা
প্রাইম ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলা তেমন জটিল কিছু নয়। শুধু প্রয়োজন সঠিক তথ্য ও পরিকল্পনা। সাম্প্রতিক আর্থিক সক্ষমতার বিচারে প্রাইম ব্যাংক দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যাংক। এর বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, বিশেষায়িত অ্যাকাউন্ট সুবিধা এবং আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা সব মিলিয়ে এটি অনেকের জন্যই ভালো একটি ব্যাংকিং অংশীদার হতে পারে।
মনে রাখবেন, অ্যাকাউন্ট খোলার আগে আপনার প্রয়োজন বুঝে সঠিক অ্যাকাউন্টটি বেছে নেওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাইম ব্যাংকে কারেন্ট অ্যাকাউন্টের জন্য ১,০০০ টাকা, প্রাইম ওয়ান-এর জন্য ৫০০ টাকা, প্রাইম ফার্স্ট-এর জন্য ১০০ টাকা—এভাবে প্রোডাক্টভেদে প্রাথমিক জমার পরিমাণ আলাদা। তাই অ্যাকাউন্ট খুলতে যাওয়ার আগে জেনে নিন আপনার জন্য কোন অ্যাকাউন্টটি সঠিক, তারপরেই সিদ্ধান্ত নিন।



